English বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২০

উগ্র জাতীয়তাবাদ প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে ভারতের সম্পর্ক নষ্ট করছে

ISSUE-1-ENG-02-07-2020-Hindu

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্ভবত ধারণা করতে পারেননি যে ‘চীন আমাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেনি, কোনো এলাকা দখল করেনি’ মর্মে তার বক্তব্যটি তার নেতৃত্বের প্রতি কঠোর চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে। কট্টর জাতীয়তাবাদী হিসেবে পরিচিতি মোদির বিরুদ্ধে এমনকি ভারতীয় ভূমি বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। কঠোর বাস্তবতা হলো, এই প্রথম কিন্তু তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উত্থাপিত হয়নি।

মোদি ব্যাপক মুগ্ধতা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন, তার ‘প্রতিবেশী প্রথম’ উদ্যোগটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। এর মাধ্যমে তিনি সার্কভুক্ত দেশগুলোর সাথ ভারতের ঐতিহাসিক তিক্ত সম্পর্ক পরিশুদ্ধ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু বিপুলভাবে আচ্ছন্নতা সৃষ্টিকারী উগ্র জাতীয়তাবাদী ভাবাবেগ আক্ষরিকভাবেই তার প্রতিবেশী নীতিগুলো ছিনতাই করে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে ধ্বংস করে দেয়।

উগ্র জাতীয়তাবাদীরা যখন তাদের সব সঙ্কটের জন্য প্রতিবেশীদের দায়ী করে, তখন এর মূল্য দিতেই হয়। ভারতের উন্মাদনাপূর্ণ গণভাবাবেগের শিকার কেবল চীনই হয়নি। গত মে মাসে লিপুলেখে নতুন রাস্তা উদ্বোধনের সময় নেপালও এর শিকার হয়। কাঠমান্ডু দাবি করেছে, ওই রাস্তায় তাদের ১৭ কিলোমিটার জায়গা রয়েছে। নেপালের দাবি ভারত প্রত্যাখ্যান করেছে। এতে করে নেপালে গণবিক্ষোভের সৃষ্ট হয়।

নেপালে ভারতবিরোধী ভাবাবেগ নতুন কিছু নয়। কঠোর বাস্তবতা হলো, নয়া দিল্লি কখনো রাস্তা নির্মাণের জন্য নেপালের অনুমতি নেয়নি, বরং এর বদলে যেকোনো অবাধ্য নেপালি সরকারকে শিক্ষা দিতে চেয়েছে। ২০১৫ সালে নেপাল নতুন সংবিধান গ্রহণ করার সময় ভারত তার কিছু বিষয় তাতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানায়। তা প্রত্যাখ্যাত হলে তারা নেপালের ওপর অঘোষিত অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে।

আরও পড়ুনঃ ভারতের প্রতিবেশীদের উপর যেভাবে প্রভাব বাড়িয়েছে চীন

আর দক্ষিণে মোদি হয়তো ২০১৫ সালে বাংলাদেশের সাথে সীমান্ত চুক্তি করে আনন্দ লাভ করতে পারেন। ওই সময় তিনি ভারতের ভূমি বিক্রি করার সমালোচনা দমন করতে পারতেন। কিন্তু তারপর থেকে তার পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা বেশ প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছে। বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্কও এর ব্যতিক্রম নয়।

ডানপন্থী জাতীয়তাবাদীরা নাগরিকত্ব আইন (সংশোধনী) জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি)-এর সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু এর ফলে দেশে সহিংস বিক্ষোভ ও আন্তর্জাতিক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ভারতের লাগোয়া প্রতিবেশী বাংলাদেশ এ নিয়ে বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। এ কারণে গত মার্চে মোদির বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ঢাকার রাজপথে বিক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

জানুয়ারিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকাশ্যভাবে দেশীয় ডানপন্থী জাতীয়তাবাদকে তুষ্ট করার জন্য মুসলিম কার্ড খেলার জন্য তার ভারতীয় প্রতিপক্ষের সমালোচনা করেন। এর ফলে ক্ষোভ প্রকাশের সাহস প্রদর্শনের জন্য অভিযোগ আনা হয়। বেইজিং দূরের বলির পাঁঠা হলেও ঢাকার সাথে ঘনিষ্ঠতর সম্পর্ক রাখছে। এটাও নয়া দিল্লির জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে।

ভারতের সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভয় প্রবিষ্ঠ করার জন্য কাদের দায়ী করা উচিত? ভারতের মুসলিমবিরোধী নীতির জন্য বাংলাদেশের উদ্বেগ কি যৌক্তিক নয়? সবচেয়ে বড় কথা, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। উভয় দেশেই সংখ্যালঘুরা বাস করে। ফলে উগ্রপন্থীরা কিছু করলে তা সীমান্তের ওপাড়েও প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে।

অথচ ভারতের উগ্র জাতীয়তাবাদীরা প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে ভারতের নাজুক সম্পর্কের জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোকেই দায়ী করে। কিন্তু প্রতিবেশীদের বৈধ ও যৌক্তিক উদ্বেগগুলো তারা অব্যাহতভাবে অগ্রাহ্য করে চলেছে।

 

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড এরিয়া স্টাডিজ, তসিঙ্গহুয়া ইউনিভার্সিটি